কিডনী রোগের বিস্তারিত

কিডনি রোগের বিস্তারিতঃ সুস্থ্য থাকতে জেনে নিন- ২য় পর্ব

আপনি জানেন কি?
সারাবিশ্বে প্রায় ৮৫ কোটি (৮৫০ মিলিয়ন) মানুষ কিডনিজনিত অসুস্থ্যতায় ভুগছে। সংখ্যাটি সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যার চেয়ে আনুমানিক দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রায় ২০ লক্ষ্য মানুষকে কিডনী রোগে আক্রান্ত হবার পর সুস্থ্য থাকতে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে,এদের অনেককেই পরর্তীতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হচ্ছে। মারাত্মক এই অসুখ নিয়ে আমাদের এবারের লিখা:

Chronic Kidney Disease

কিডনি রোগের ঝুঁকি, লক্ষণ, প্রতিকার, খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসা

ওষুধ প্রয়োজন? সার্চ বক্স থেকে খুজে নিয়ে অর্ডার করে দিন, ওষুধ পৌছে যাবে আপনার হাতে

কিডনি রোগের পরীক্ষা

কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করে চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হবে। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জানতে)
  • জিএফআর (GFR)
  • ক্রিয়েটিনিন (কিডনির অবস্থা জানতে)
  • প্রস্রাবের রুটিন মাইক্রোস্কোপি (প্রস্রাবে প্রোটিন যাচ্ছে কিনা, ইনফেকশন আছে কিনা জানতে)
  • সেরাম ইলেকট্রোলাইটস (রক্তে লবণের তারতম্য হলো কিনা, পটাসিয়ামের মাত্রা জানতে)
  • সেরাম ফসফেট
  • সেরাম ক্যালসিয়াম
  • ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রা
  • আলট্রাসনোগ্রাম

যারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছেন, বছরে অন্তত দুবার সেরাম ক্রিয়েটিনিন এবং প্রস্রাবের রুটিন মাইক্রোস্কোপি, এ দুটো পরীক্ষা করানো উচিত। এতে কিডনিজনিত সমস্যা শুরু হয়ে গেলে প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিডনি রোগীদের অবশ্যই করণীয়

১. উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া,  শারীরিক পরিশ্রম এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ রোগ দুটি নিয়ন্ত্রণে রাখা। ।

২. ব্যথানাশক ওষুধ যেমন ষ্টেরয়েড এবং এনএসএআইডি গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

৩. ডায়রিয়া বা অন্যান্য কারনে পানিশূন্যতা হলে সঙ্গে সঙ্গে ওরাল স্যালাইন বা পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে তা পূরন করা।

৪. প্রস্রাবে প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তার চিকিৎসা করা। প্রস্রাবে ইনফেকশন থাকলে কালচার ও সেন্সিটিভিটি করে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক খেতে হবে।

৫. প্রস্রাবের কোনো ভৌত রাসায়নিক পরিবর্তন যেমন প্রস্রাব কম হওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া, বেশি বেশি প্রস্রাব- ইত্যাদি হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

৬. প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন, সুগার গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।

৭. চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া।

৮. লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।

৯. কিডনিতে পাথর হলে তার অপসারণ ও চিকিৎসা গ্রহণ।

১০. কিডনিতে জন্মগতত্রুটি, যেমন একটি কিডনি, ছোট কিডনি, দুটো কিডনি, পলিসিস্টিক কিডনি ইত্যাদি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অপসারণ ও চিকিৎসা গ্রহণ।

১১. কিডনি ফেইলিউর বিশেষত : এন্ড ষ্টেজ কিডনি ফেইলিউর হলে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১২. কিডনি একেবারে অকেজো হলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপন এর ব্যবস্থা করা।

লিখেছেনঃ
ডাঃ মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান (এমবিবিএস, এফ আই পি এম)
লেখক পরিচিতি

রেফারেন্সঃ
 
1. Professor John Murtagh AM, Dr Jill Rosenblatt. John Murtagh’s General Practice / John Murtagh, Jill Rosenblatt. 6th ed. McGraw-Hill Australia Pty Ltd
2. Walker BR, Colledge NR, Ralston S, Penman ID, Britton R, eds. Davidson’s Principles and Practice of Medicine. 22nd edition. Edinburgh ; New York: Churchill Livingstone/Elsevier; 2014.
4. Diabetes. https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/diabetes. Accessed February 9, 2020.
Share On
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares
  •  
    34
    Shares
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

3 thoughts on “কিডনি রোগের বিস্তারিতঃ সুস্থ্য থাকতে জেনে নিন- ২য় পর্ব

  1. With havin so much content do you ever run into any issues of
    plagorism or copyright infringement? My website has a lot of unique content
    I’ve either authored myself or outsourced but it looks like
    a lot of it is popping it up all over the internet without my agreement.

    Do you know any methods to help protect against content from being ripped off?

    I’d certainly appreciate it.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *